কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে ‘চ্যানেল 24 অনলাইন’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)-এর চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক এম এ আহাদ শাহীন—
✪ প্রশ্ন: কক্সবাজারকে ঘিরে কউক-এর মাস্টার প্ল্যান বিষয়ে জানতে চাই? সেখানে কী থাকছে?
কক্সবাজারের কোথায় কী হবে তার সবই থাকছে মাস্টার প্ল্যানে। কোথায় ট্যুরিস্ট জোন হবে, কোথায় হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্ট হাউজ হবে, কোথায় হাসপাতাল ও হাউজিং হবে, কোথায় চলাচল সীমিত থাকবে, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার জোন কোথায় হবে অর্থাৎ কোথায় কী হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকছে মাস্টার প্ল্যানে। সেখানে ট্যুরিস্টবান্ধব সবকিছুই থাকছে। পর্যটনের জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়, পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ড আছে। কোথায় কী থাকবে এবং কী হবে সবকিছু তাদের পরামর্শ আমলে নিয়ে করা হচ্ছে।
✪ প্রশ্ন: বিদেশি ট্যুরিস্টদের ক্ষেত্রে...
বিদেশি ট্যুরিস্টদের জন্য আলাদা জোন হবে। এটি (জোনিং) আমরা শক্তভাবে করব এবং কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। বিদেশি ট্যুরিস্টদের জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা থাকবে। তাদের জন্য পৃথক সার্ফিং ব্যবস্থা থাকবে, থাকবে সার্ফ ট্রেনিং সেন্টারও।
✪ প্রশ্ন: মাস্টার প্ল্যানে কি জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে?
যেহেতু জনগণের মতামত নিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি হচ্ছে, সেহেতু এতে অবশ্যই জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। কক্সবাজারকে বাঁচাতে হলে, এ জেলাকে দেশীয় ট্যুরিস্টদের জন্য আকর্ষণীয় করতে হলে এবং বিদেশিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে হলে স্থানীয়দের সর্বাত্মক সহযোগিতা দরকার।
✪ প্রশ্ন: কক্সবাজার বদলানোর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?
মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কক্সাবাজারকে বাঁচাতে হলে, এ জেলাকে দেশীয় ট্যুরিস্টদের জন্য আকর্ষণীয় করতে হলে এবং বিদেশিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে হলে স্থানীয়দের সর্বাত্মক সহযোগিতা দরকার। দুই বছরের মধ্যে আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।
✪ প্রশ্ন: জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় কোন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে কউক?
করোনার শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, সমুদ্রের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। এরপর আমরা লাল কাঁকড়া, কচ্ছপ, সামুদ্রিক লতাপাতার জন্য বিশেষ জোন করেছি। সেখানে চলাফেরা সীমিত করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার বিষয়, তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের সেসব উদ্যোগ ম্লান করে দিয়েছে। আমরা গড়ি আর দুর্যোগে সব ভেসে যায়। তবে আমরা ভাগ্যবান, দুর্যোগ সত্ত্বেও প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র্য ফের ফিরে আসে। এটির যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। আমরা সেটি করে যাচ্ছি।